Home Top Ad

Responsive Ads Here

Search This Blog

     ছোটবেলায় নাসিরউদ্দিন, অবস্থা খারাপের দরুণ, গ্রামের জমিদার বাড়ীর উঠোনে ঝাঁট দিতো, অন্যান্য কাজকর্ম করতো। জমিদারের নিয়ম ছিল—তার চাকরের...

ভেজা ভেজা উঠোন - মোল্লা নাসিরউদ্দিন

     ছোটবেলায় নাসিরউদ্দিন, অবস্থা খারাপের দরুণ, গ্রামের জমিদার বাড়ীর উঠোনে ঝাঁট দিতো, অন্যান্য কাজকর্ম করতো। জমিদারের নিয়ম ছিল—তার চাকরেরা, সবাই বছর শেষে এককালীন মাইনে পাবে। আর জমিদারটি বছরের শেষ দিনে, মাইনে যাতে দিতে না হয়, সেজন্য কোনো-না-কোনো ছল-ছুতোয় গালমন্দ করে চাকরদের বিদেয় করে দিতো।
     এ বারেও বছরের শেষ দিনে জমিদার বাচ্চা নাসিরকে ডেকে ৰললে,—দেখ বাপু, আজ সারাদিন তুমি উঠোন বাট দেবে। ওটা যেন বেশ ভিজে-ভিজে থাকে।’
     ‘তাই হবে হুজুর’—নাসির বলে।
     ‘হ্যাঁ, শোন এবার,—এ বছর তো বৃষ্টি কম হয়েছে, তাই উঠোনে একটুও জল ঢালতে পাবে না।’
     ‘তাহলে ভিজে-ভিজে থাকবে কি করে হুজুর?’-বালক নাসিরের জিজ্ঞাসা।
     ‘তার আমি কি জানি। কাজের গাফিলতি হলে এক পয়সাও, পাবে না কিন্তু — ?’
     মালিক চলে যাবার পর নাসির প্রথমে গোটা উঠান ঝাঁট দিল। তারপর মালিকের তেল-গুদাম থেকে কলসী-ভর্তি তেল এনে ঢেলে উঠোন ভেজা-ভেজা করে দিনের শেষে মজুরির অপেক্ষায় বসে থাকে।
     বাড়ী ফিরে মালিক সব দেখে তো তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। কিন্তু কিছুই বলার নেই ঐটুকু বাচ্চার বুদ্ধির কাছে।

0 coment�rios: