Home Top Ad

Responsive Ads Here

Search This Blog

      মোল্লা নাসিরউদ্দিন তার প্রিয় গাধটিতে চড়ে খুশীমত ঘুরে বেড়াতেন এদেশে-ওদেশে। একবার এক দেশে গিয়ে দেখেন সে দেশের বাদশাটি মহামূর্খ। তাঁক...

দড়ি ধরে টান মারলি কেন - মোল্লা নাসিরউদ্দিন

      মোল্লা নাসিরউদ্দিন তার প্রিয় গাধটিতে চড়ে খুশীমত ঘুরে বেড়াতেন এদেশে-ওদেশে। একবার এক দেশে গিয়ে দেখেন সে দেশের বাদশাটি মহামূর্খ। তাঁকে যুক্তি-পরামর্শ যিনি দেন, তার বুদ্ধিসুদ্ধিও ঠিক তদ্রুপ।
      নাসিরউদ্দিনের নাম-ডাক সে দেশে ও গিয়ে পৌঁছেছে। হঠাৎ নাসিরউদ্দিনকে দেখে বাদশা বললেন, “আপনি আসায় আমি বাঁচলাম। তাঁরা নিশ্চয়ই আমাকে কিছু না কিছু জিজ্ঞেস করবেন। এখন আপনার পরামর্শ চাই।”
      ‘বেশ তো, বেশ তো, আমি অবশ্যই সাহায্য করবো, তবে আমাকে পঞ্চাশ মোহর দিতে হবে।’
      “অবশ্যই পাবেন ।’
     পরদিন ইতিমধ্যে বাদশার পায়ের জুতোয় একটা লম্বা কালে ও টেকসই সূতো বেঁধে মোল্লা নিজের হাতে রেখেছেন। বলা আছে বাদশাকে, যখন তিনি আজে বাজে কথা বলতে যাবেন, তখন মোল্লা সূতো ধরে টান মারবেন, আর, বাদশা চুপ করে যাবেন। যা বলবার তখন মোল্লাই বলবেন ।
      রাজদূতেরা এসে গেলেন। প্রশ্ন করলেন, ‘আচ্ছা, আপনার দেশের কুকুর-বেড়ালরা কি খুব সুখী? গরু-ছাগলেরা কি শান্ত ও সুস্থ শরীরে আছে? এছাড়া’–বাদশা কি উত্তর দিতে যাচ্ছেন, এটুকু শোনামাত্রই মোল্লা নাসিরউদ্দিন কালো সূতোয় টান দিতে বাদশ চুপ করে থাকেন। তখন মোল্লা নাসিরউদ্দিন বাদশার হয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকেন ।
       ‘দেখুন, আমাদের বাদশা এমন পণ্ডিত যে তিনি নিজে নিজের বিদ্যে বুদ্ধি জাহির করতে ইচ্ছুক নন। —তাই, আমি বাদশার রাজসভার তরফ থেকে উত্তর দিচ্ছি শুনুন,—ঐ যে আপনি বেড়ালকুকুরের সম্বন্ধে বললেন, এতে বোঝা যায় আপনি আমাদের দেশের সামরিক, অ-সামরিক কর্মচারীদের সম্বন্ধে বোঝাতে চাইছেন। আর, গরু-ছাগল বলা মাত্রই বুঝে নিয়েছি—ওরা হোল দেশের প্রজা সাধারণ। তাই না?
      —এই ব্যাখ্যা শুনেই না, রাজদূতেরা বলে ওঠেন ‘মারহাব্বা ! মারহাব্বা !!—সত্যই আপনার ব্যাখ্যা প্রশংসনীয়।”
      আর, বলতে লজ্জাও করে, ঠিক এমনি সময়েই কিনা, ঐ বাদশাটা বোকার মত মোল্লা নাসিরউদ্দিনকে চেঁচিয়ে ভংসনা করেন: ‘দূর ব্যাটা বোকা, কোত্থেকে এ এসেছে? ওদের কথার উত্তরে যদি এমন সব জ্ঞানের কথাই ছিল,তবে দড়ি ধরে টান মারলি কেন বেকুব?

0 coment�rios: