বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে অনেক ভালবাসা থাকে। কিছু বন্ধুত্ব থাকে শুধু স্বার্থের জন্য। আবার কিছু বন্ধুত্ব একসাথে থাকতে থাকতে হয়ে যায়। হয়ত দেখা যায় অনেক দিন একই সাথে আছে এজন্যই মনের টান না থাকলেও বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। কিয়াং এবং ঝুয়াংয়ের মধ্যে যে বন্ধুত্ব এটা একসাথে থাকার বন্ধুত্ব। ওরা ইঁদুর। ........
বয়সের দিক দিয়ে ঝুয়াং একটু বড়। ওর রঙ ধূসর। কিয়াং ছোট হলেও চালাক বেশি। সে তুলনায় ঝুয়াংটা একটু বোকাই বটে। আগে যেখানে থাকতো সেখানে কঠিন বৃষ্টি হয়। তারা যে বাসায় থাকত ঐ বাসায় পানি উঠে। বন্যা থেকে বাঁচার জন্য দুই বন্ধু অন্য বাসায় ঢুকে। ওরা শরীর ছোট। তাই গেটে দারোয়ান থাকলেও সে খেয়াল করে না।
তখন রাত। রাত বাড়ছে। কিন্তু বাসার ছোট ছেলেটার চিল্লা চিল্লির কারণে বাসার কেউ ঘুমাতে পারছে না। আর এদিকে কিয়াং ঝুয়াং কোণায় আটকে আছে। ঘরের সবাই ঘুমানোর আগে বের হওয়া যাচ্ছে না। কি যে মুসিবত।
ছেলেটা কেঁদেই যাচ্ছে। সে মিমি খাবে।
বাবা বুঝাচ্ছে, বাবা কাল কিনে দেবো।
নাহ পিচ্ছি ছেলেটা বুঝে না। সে বলে এখন লাগবে।
-এখন তো দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। দোকানদার ঘুমাতে চলে গেছে।
- নাহ আমার এখন লাগবে।
কিছুতেই বুঝানো যায় না।
মা একটা থাপ্পর দিয়ে বসেন।
বাবা রাগ করেন। তুমি থাপ্পর দিলে কেন? পিচ্ছি ছেলে।
বাবা ছেলেকে গল্প বলেন। গল্প বলা শুরু করতেই ছেলের কান্না থেমে যায়। এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে।
ইঁদুর দুইটি এগুলো শুনছিল। যখন সব থেমে যায় তখন দুইজনই বেরিয়ে আসে।
ওরা এখন পাকঘরে।
কিয়াং বলে, ঝুয়াং তুমি কোথায় থাকবে?
ঝুয়াং উত্তর দেয়, কেন এখানে।
-আরে এখানে তো ময়লা। পাক ঘরে কেউ থাকে নাকি? তুমি ড্রয়িং রুমে চলে যাও। সেখানে সোফা আছে। তার উপর আরাম করে থাকতে পারবা।
বোকা ঝুয়াং তা মেনে নেয়। আসলে তো। ড্রয়িং রুমে থাকলে ভাল। সেখানে আরাম।
কিয়াংয়ের মনে অন্য কিছু। পাকঘরের খাবার গুলো একা খেতে পারবে। ঝুয়াং ড্রয়িং রুমে চলে যাওয়ার পর ও স্বাধীন ভাবে খাওয়া শুরু করে। যা যা আছে সব গুলোতে মুখ দেয়। যতটুকু না খায় তার চেয়ে বেশি এলেমেলো করে।
খাওয়া শেষ হলে ড্রয়িং রুমে যায়। দেখে ঝুয়াং নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। কিয়াংয়ের পেট ভরা। ওরও ঘুম আসে। ও ঝুয়াংয়ের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে।
এদিকে সকাল বেলায় মহিলা উঠে পাকঘরে অবস্থা দেখেন। চোখ কপালে উঠে। পাক ঘরটা সম্পূর্ণ এলেমেলো করে দিয়েছে। নিশ্চয় কোন পাজি ইদুর করছে। হাতের কাছে লাঠিটা নেন। পাজিটাকে দেখলেই মারবেন। এত নষ্ট যে করছে তাকে এম্নেই ছেড়ে দেওয়ার কোন মানে হয় না।
অন্যদিকে ক্ষুধায় ঝুয়াংয়ের ঘুম ভেঙে যায়। সে দেখে পাশে কিয়াং শুয়ে আছে। কিয়াংকে ডাক দেয়। এই কিয়াং উঠো। আমার খিদা লাগছে।
-উহু। বিরক্ত করছো কেন? পাকঘরে যাও। সেখানে খাবার আছে অনেক ভাল ভাল।
-তুমি যাবে না?
-নাহ আমি এখন ঘুমাবো। আমি আরো পরে খাবো।
ঝুয়াং পাকঘরে যায়। খেতে যাবে এসময় মহিলা দেখে ফেলে। সাথে সাথে লাঠি দিয়ে বাড়ি মারেন।
ঝুয়াংয়ের মাথা ফেটে যায়। মহিলা থামেন না। আরো কয়েকটা বাড়ি মারেন। ঝুয়াং মারা যায়।
[লেখাটি পাঠিয়েছেন: গোলাম মওলা আকাশ]
Search This Blog
বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে অনেক ভালবাসা থাকে। কিছু বন্ধুত্ব থাকে শুধু স্বার্থের জন্য। আবার কিছু বন্ধুত্ব একসাথে থাকতে থাকতে হয়ে যায়। হয়ত দেখা যায় অ...
About author: Sisir Suvro
Cress arugula peanut tigernut wattle seed kombu parsnip. Lotus root mung bean arugula tigernut horseradish endive yarrow gourd. Radicchio cress avocado garlic quandong collard greens.
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
0 coment�rios: